কৃষ্ণ কে কেন বিয়ে করেনি রাধা???

রাধাকৃষ্ণকে কখনোই দুটি ভাগে বিভক্ত করা যায় না - কৃষ্ণ, বিষ্ণুর অষ্টম অবতার, এবং তার হ্লাদিনী শক্তি ('নাদশক্তি') রাধারূপে; কারণ কৃষ্ণের প্রতি রাধিকার প্রেম এতই দৃঢ়বদ্ধ যে, তারা যুগলে একক মূর্তি পরিগ্রহ করেন। বৃন্দাবনে কৃষ্ণকে সর্বদা বামপার্শ্বে দণ্ডায়মানা রাধিকার সঙ্গে চিত্রিত করা হয়, যার বুকে স্বয়ং লক্ষ্মীদেবী বিরাজমান। পুরাণ-কথা অনুযায়ী, কৃষ্ণ আসলে নারায়ণের একটি রূপ এবং রাধা লক্ষ্মীর রূপ। রাধা-কৃষ্ণের প্রেম মানুষের সঙ্গে ভগবানের চিরকালীন প্রেমেরই প্রতিচ্ছবি। রাধা-রূপী লক্ষ্মী যদি কৃষ্ণের সঙ্গীনি হতেই মর্ত্যে অবতীর্ণ হয়েছিলেন, তবে কেন কৃষ্ণকে ছেড়ে আয়ানকে বিয়ে করেছিলেন তিনি?


উপকথায় পাওয়া যায় যে আয়ানের আসল নাম অভিমন্যু। গোকুলের কাছে জারত নামে একটি গ্রামে তাঁর বাস। পেশায় তিনি ছিলেন দুধের ব্যবসায়ী। তাঁর বাবার নাম গোলা, মা জটিলা এবং বোন কুটিলা। সম্পর্কে কৃষ্ণের পালিকা মা যশোদার তুতো ভাই ছিলেন আয়ান। তাঁর সঙ্গে রাধার বিয়ের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন কৃষ্ণের পালক পিতা নন্দ। কালী-ভক্ত আয়ান পুজো-অর্চনা নিয়েই থাকতেন। লোককথা বলছে যে গতজন্মে আয়ান লক্ষ্মীদেবীকে স্ত্রী হিসেবে পেতেন ভীষণ তপস্যা শুরু করেন। কিন্তু তাঁকে এই বর দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন নারায়ণ। তাতে নিরস্ত না হয়ে নিজের চারপাশে আগুন জ্বেলে আরও কঠিন সাধনা করেন আয়ান। তখন বাধ্য হয়ে নারায়ণ তাঁকে বলেন যে পরের জন্মে তিনি রাধা-রূপী লক্ষ্মীকে স্ত্রী হিসেবে পাবেন, কিন্তু সেই জন্মে আয়ান নপুংসক হবেন বলেও জানান তিনি। রাধা আয়ানকে বিয়ে করলেও তাঁদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর কোনও সম্পর্ক ছিল না। অন্য একটি লোককথা অবশ্য বলছে যে একবার শিশুকালে রাধা ও কৃষ্ণ পায়ে হেঁটে বৃন্দাবন যাচ্ছিলেন। সেই সময় ক্লান্ত হয়ে একটি বট গাছের নীচে তাঁরা বিশ্রাম নিতে বসেন। খেলার ছলে তাঁরা বিয়ে করতে শুরু করেন। সেই বিয়ের আচার সম্পূর্ণ করেন খোদ ব্রহ্মা, বিয়ের সাক্ষী ছিলেন সব দেবতাগণ। কৃষ্ণের সঙ্গে আগেই বিয়ে হয়ে যাওয়ায় আয়ানের সঙ্গে রাধার বিয়ে বৈধ নয় বলে জানাচ্ছে কোনও কোনও লোককথা। এই সব লোককথা রাধা-কৃষ্ণের সম্পর্ককে বিবাহ-বহির্ভূত বলতে রাজি নয়।

12 views0 comments